0
হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এক বেদনা বিদুর কাহিনী
ঘন্টা খানেক ধরে মেয়েটি ঘ্যানঘ্যান

করছে। বারবার ছেঁড়া জামা দেখিয়ে
আমেনা বেগমের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা
করছে। কিন্তু তিনি নির্লিপ্ততার ভান ধরে
আছেন। ভাবখানা এমন, যেন কিছুই শুনছেন
না। অবশ্য ছাড়া তার উপায়ও নেই।
মেয়ের আবদার পূরণ অসম্ভব।
"
মা একখান লাল জামা দাও না!"
আমেনা বেগম মেয়ের দিকে ফিরে
তাকান। কাঁদতে কাঁদতে মেয়েটার চোখ
ফুলে গেছে। অবশ্য ওর বা দোষ কোথায়?
ঈদে সবাই নতুন জামা পড়ে ঘুরে বেড়াবে,
আর মেয়েটার পরনে থাকবে পুরনো ছেঁড়া
জামা
গতবছরও মেয়েটা লাল জামার আবদার
করেছিল, আমেনা বেগম দিতে পারেননি।
বুঝিয়ে- সুঝিয়ে সে যাত্রা রক্ষা হয়েছিল।
কিন্তু এবার মেয়ে নাছোড়বান্দা। কারন
পাশের ঘরের মালতীও লাল জামা
কিনেছে!
ওর এক কথা, "মালতীর মায় যদি মালতীরে
লাল জামা দিতে পারে, তুমি পারবা না
ক্যান?"
মেয়ের কান্না দ্বিগু্ণ বেড়ে যায়। আমেনা
বেগমের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায়। মেয়ের
গালে সজোরে চড় বসিয়ে দেন। পাশে
অসুস্থতায় জর্জরিত স্বামীকে দেখিয়ে
বলেন, " তোর বাপরে দেখছস? ওষুধ কিনতে
কিনতে দুইদিন পর আমার রক্ত বেঁচন
লাগবো। ক্যামনে তোরে লাল জামা দিমু?
তুই কি আমারে মরতে কস?"
জানেন মেয়েকে এসব বলা বোকামি। ছোট্র
মেয়েটি এসবের কি বোঝে?
চড় খেয়ে মেয়েটি থমকে যায়। একটু টুঁ শব্দও
করে না
রাতে সে না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ে আমেনা
বেগমের মমতা হয়। ইচ্ছে হয় মেয়েকে তুলে
আদর করে খাওয়াতে, তোলেন না। থাক,
ঘুমিয়েই থাক। গরীবের আজন্ম দুঃখ রোগ,
ঘুমটাই যা একটু উপশম।
সকালে ঘুম থেকে উঠে মেয়েটি ওর মাকে
খোঁজে, পায় না। জানে বাবাকে জিগ্যেস
করা বৃথা। কারণ তার ঠোঁট নড়ে শুধু খাবার
খাওয়ার জন্য, কথা বলার জন্য নয়।
সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়, মা ফেরে না।
মেয়েটি চিন্তায় অস্হির হয়। হাঁটতে
হাঁটতে রাস্তায় চলে যায়। ছুটে চলা গাড়ির
ফাঁকে ফাঁকে মাকে খোঁজে। না, কোথাও
নেই। হঠাৎ অদূরে চোখ পড়তেই তার চোখমুখ
খুশিতে ঝলমল করে ওঠে।
"
আরে, এই তো আমার মা!"
হাতে একটা প্যাকেট, নিশ্চয়ই লাল জামা।
খুশিতে মেয়েটি দৌঁড় দেয়।
আমেনা বেগম আহাজারি করে ওঠেন, "মা
রে, দৌঁড়াইস না। গাড়ির নিচে পড়বি! "
কথাগুলো মেয়েটির কানে যায় না, সে
ছুটতেই থাকে
আমেনা বেগমও ছুটতে থাকেন।
হঠাৎ একটা ট্রাক মা-মেয়েকে আড়াল করে।
ট্রাকটা সরে যেতেই মেয়েটি আবিষ্কার
করে মায়ের নিথর দেহটা রাস্তায় পড়ে
আছে। মুঠোতে শক্ত করে ধরে আছে লাল
জামা
মেয়েটি হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে মায়ের নিথর
দেহের পাশে। চিৎকার করে বলতে থাকে, "
মা গো তুই ফিরে আয়, আমার লাল জামা
লাগবে না!"

গল্পঃ লাল জামা
লেখিকাঃ Moon-struck Farjana Boby
ঈদ স্পেশাল গল্পঃ 28
Item Reviewed: ঈদ স্পেশাল গল্পঃ 28 9 out of 10 based on 10 ratings. 9 user reviews.

Post a Comment

Dear readers, after reading the Content please ask for advice and to provide constructive feedback Please Write Relevant Comment with Polite Language.Your comments inspired me to continue blogging. Your opinion much more valuable to me. Thank you.

ঈদ স্পেশাল গল্পঃ 28

7:42 AM Unknown 0 Comments

হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়া এক বেদনা বিদুর কাহিনী
ঘন্টা খানেক ধরে মেয়েটি ঘ্যানঘ্যান

করছে। বারবার ছেঁড়া জামা দেখিয়ে
আমেনা বেগমের দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা
করছে। কিন্তু তিনি নির্লিপ্ততার ভান ধরে
আছেন। ভাবখানা এমন, যেন কিছুই শুনছেন
না। অবশ্য ছাড়া তার উপায়ও নেই।
মেয়ের আবদার পূরণ অসম্ভব।
"
মা একখান লাল জামা দাও না!"
আমেনা বেগম মেয়ের দিকে ফিরে
তাকান। কাঁদতে কাঁদতে মেয়েটার চোখ
ফুলে গেছে। অবশ্য ওর বা দোষ কোথায়?
ঈদে সবাই নতুন জামা পড়ে ঘুরে বেড়াবে,
আর মেয়েটার পরনে থাকবে পুরনো ছেঁড়া
জামা
গতবছরও মেয়েটা লাল জামার আবদার
করেছিল, আমেনা বেগম দিতে পারেননি।
বুঝিয়ে- সুঝিয়ে সে যাত্রা রক্ষা হয়েছিল।
কিন্তু এবার মেয়ে নাছোড়বান্দা। কারন
পাশের ঘরের মালতীও লাল জামা
কিনেছে!
ওর এক কথা, "মালতীর মায় যদি মালতীরে
লাল জামা দিতে পারে, তুমি পারবা না
ক্যান?"
মেয়ের কান্না দ্বিগু্ণ বেড়ে যায়। আমেনা
বেগমের ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙ্গে যায়। মেয়ের
গালে সজোরে চড় বসিয়ে দেন। পাশে
অসুস্থতায় জর্জরিত স্বামীকে দেখিয়ে
বলেন, " তোর বাপরে দেখছস? ওষুধ কিনতে
কিনতে দুইদিন পর আমার রক্ত বেঁচন
লাগবো। ক্যামনে তোরে লাল জামা দিমু?
তুই কি আমারে মরতে কস?"
জানেন মেয়েকে এসব বলা বোকামি। ছোট্র
মেয়েটি এসবের কি বোঝে?
চড় খেয়ে মেয়েটি থমকে যায়। একটু টুঁ শব্দও
করে না
রাতে সে না খেয়েই ঘুমিয়ে পড়ে আমেনা
বেগমের মমতা হয়। ইচ্ছে হয় মেয়েকে তুলে
আদর করে খাওয়াতে, তোলেন না। থাক,
ঘুমিয়েই থাক। গরীবের আজন্ম দুঃখ রোগ,
ঘুমটাই যা একটু উপশম।
সকালে ঘুম থেকে উঠে মেয়েটি ওর মাকে
খোঁজে, পায় না। জানে বাবাকে জিগ্যেস
করা বৃথা। কারণ তার ঠোঁট নড়ে শুধু খাবার
খাওয়ার জন্য, কথা বলার জন্য নয়।
সকাল গড়িয়ে দুপুর হয়, মা ফেরে না।
মেয়েটি চিন্তায় অস্হির হয়। হাঁটতে
হাঁটতে রাস্তায় চলে যায়। ছুটে চলা গাড়ির
ফাঁকে ফাঁকে মাকে খোঁজে। না, কোথাও
নেই। হঠাৎ অদূরে চোখ পড়তেই তার চোখমুখ
খুশিতে ঝলমল করে ওঠে।
"
আরে, এই তো আমার মা!"
হাতে একটা প্যাকেট, নিশ্চয়ই লাল জামা।
খুশিতে মেয়েটি দৌঁড় দেয়।
আমেনা বেগম আহাজারি করে ওঠেন, "মা
রে, দৌঁড়াইস না। গাড়ির নিচে পড়বি! "
কথাগুলো মেয়েটির কানে যায় না, সে
ছুটতেই থাকে
আমেনা বেগমও ছুটতে থাকেন।
হঠাৎ একটা ট্রাক মা-মেয়েকে আড়াল করে।
ট্রাকটা সরে যেতেই মেয়েটি আবিষ্কার
করে মায়ের নিথর দেহটা রাস্তায় পড়ে
আছে। মুঠোতে শক্ত করে ধরে আছে লাল
জামা
মেয়েটি হাঁটু গেড়ে বসে পড়ে মায়ের নিথর
দেহের পাশে। চিৎকার করে বলতে থাকে, "
মা গো তুই ফিরে আয়, আমার লাল জামা
লাগবে না!"

গল্পঃ লাল জামা
লেখিকাঃ Moon-struck Farjana Boby

0 comments: